তৃতীয় অধ্যায় নিঃসঙ্গতা

ঈশ্বরের মহিমা অগ্নিশূন্য 4604শব্দ 2026-03-04 13:13:06

"তুমি এখানে ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে আর খেলতে পারো, আমি আমার পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছি। কিন্তু তুমি কোথাও চলে যেও না, বুঝেছো?" অলিভিয়েরা পরশিউকে সাবধান করল। পরশিউ আজ্ঞাবহভাবে মাথা নাড়ল। আসলে, এমন অচেনা পরিবেশে তার কোথাও যাওয়ার মনই নেই। সে এক কোণে একটা চেয়ার খুঁজে নিয়ে বসে পড়ল, নীরবে অলিভিয়েরার ফেরার অপেক্ষায় রইল।

পরশিউ কখনো কখনো খুব চঞ্চল হয়, যেমন আগের দিন স্পুভিসে বন্দরে বিশাল ‘বায়ু-নাবিক’ জাহাজে ছিল। তবে ওটা ছিল চেনা লোকের উপস্থিতিতে, অলিভিয়েরা না থাকলে সে একদম শান্ত ও ভদ্র হয়ে যায়।

বিনোদনের অভাবে পরশিউ হাতের ভঙ্গি পাল্টাতে পাল্টাতে বিভিন্নবার আগে শেখা জাদুবিদ্যা ব্যবহার করতে লাগল। অলিভিয়েরা তাকে বলেছিল, যদি জাদু ব্যবহার করতে দেরি হয়—পরশিউর ‘বিচার’ জাতীয় জাদুর মতো—তবে আসল পরিস্থিতিতে ওগুলো ব্যবহার করার দরকার নেই, বরং শত্রুর কাছে গিয়ে দু’মুষ্টি বসিয়ে দেয়াই ভালো।

পরশিউ অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী, তাই অলিভিয়েরার কথা সে সহজেই বুঝে নিয়েছিল। সে লাগাতার জাদুবিদ্যা চর্চা করতে লাগল, যেন নিজের জাদুশক্তি নিয়ন্ত্রণ ও জাদু নিষ্করণের গতি বাড়াতে পারে এবং দ্রুত উচ্চস্তরের জাদু আয়ত্ত করতে পারে।

তবে এইসব কারণ গৌণ, মূলত অবসর সময়ে কিছু করার নেই বলেই সে এত মনোযোগ দিয়ে জাদুবিদ্যা চর্চা করছিল।

পরশিউ যখন জাদুতে ডুবে, তখন চারপাশের মানুষের চলাফেরা একেবারে উপেক্ষা করছিল। প্রায়ই বড়রা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে সামনে দিয়ে যেত, পরশিউর জাদু ব্যবহার দেখে অবাক হয়ে তাকাত, তারপর নিজেদের সন্তানকে শাসন করতে করতে বলত, ‘‘দ্যাখো, ও কেমন...’’ অন্যের বাচ্চা নিয়ে তুলনা করত।

কিন্তু পরশিউ এসব কেয়ার করত না। সে যখন অনুশীলনে মগ্ন, তখন আশপাশের কিছুর খেয়ালই রাখত না। ফলে সে জানতই না, এখন চারপাশের বাচ্চাদের কাছে সে রীতিমতো ঈর্ষার পাত্র হয়ে উঠেছে।

অনেকক্ষণ চর্চার পর ক্লান্তি এসে যাওয়ায়, সে চোখ বন্ধ করে ধ্যান করতে বসল।

ধ্যান করার সময় সে বাইরের জগত থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, সময়ের কোনো অনুভূতিই থাকে না, কারও যাতায়াত লক্ষ্যও করে না। পরশিউর ধ্যান অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সাধারণত ধ্যানে যেতে কিছু প্রস্তুতি লাগে, পরশিউ সে ধাপটা একেবারে এড়িয়ে যায়; সে চাইলে মুহূর্তেই ধ্যানে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ ধ্যানে ধীরে ধীরে জাদুশক্তি আহরণ করে, পরশিউ ধ্যান ছাড়াই জাদুশক্তি টেনে নিতে পারে; ধ্যানে গেলে তো যেন নদী থেকে ধারা টেনে নিচ্ছে।

কতক্ষণ কেটে গেল কে জানে, হঠাৎ বাইরের একটা শব্দে পরশিউর ধ্যান ভাঙল। চোখ খুলে সে দেখল, তিনজন মানুষ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, সবাই সাদা পুরোহিত পোশাক পরে। সে চেনা মুখ খুঁজে নিল—বাঁদিকে অলিভিয়েরা। পরশিউ বলল, ‘‘অলিভিয়েরা কাকা, কাজ শেষ হলো তোমার?’’

‘‘হ্যাঁ, তুমি এখানে থাকার অনুমতিও পেয়েছো। এবার চল।’’

তারপর সে দুই সঙ্গীর দিকে ঘুরে বলল, ‘‘ফালিয়ান, ঝুফানো, আমি তাকে নিয়ে এখন যাই।’’

মাঝখানের জন মাথা নাড়ল, বলল, ‘‘তুমি যখন ফিরেছো, আমিও একবার বাইরে যাব। তোমরা এখানেই থাক। চার্চে অন্তত দু’জন পুরোহিত থাকা চাই।’’

বলতে বলতে সে দূরের একটা ছোট মেয়ের দিকে হাত নাড়ল, ডেকে বলল, ‘‘আঞ্জেলা, এসো, আমরা বেরোচ্ছি।’’

দূর থেকে ছোট্ট মেয়েটি দৌড়ে এসে ওই পুরোহিতের হাত শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, বলল, ‘‘বাবা, এখনই যাচ্ছি?’’

সাদা পোশাকের মাঝের পুরোহিত হাসল, বলল, ‘‘হ্যাঁ, এখনই আমরা এখান থেকে যাচ্ছি। অলিভিয়েরা কাকা ফিরে এসেছে, এখন আমিও তোমাকে নিয়ে বেরোতে পারব।’’

ওই বাবা-মেয়ের দৃশ্য দেখে পরশিউর মনে হঠাৎ শূন্যতা নেমে এল।

অলিভিয়েরা তাকে ছেলের মতোই ভালোবাসে ঠিকই, কিন্তু ‘‘কাকা’’ শব্দটা দু’জনের মাঝে দূরত্ব রেখেই দেয়। পরশিউ শেষমেশ একজন অনাথই।

পরশিউর চোখের বিষণ্ণতা অলিভিয়েরা টের পেল। সে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল, কিন্তু আজ পরশিউ অস্বস্তি প্রকাশ করল না, বরং নিশ্চল রইল। এবার অলিভিয়েরা সত্যিই অসহায় হয়ে পড়ল, সে পাশের পুরোহিতের দিকে চোখ টিপল। সেই পুরোহিতও বুঝে নিয়ে দূরে খেলতে থাকা এক মেয়েকে ডেকে বলল, ‘‘আইরিন, এখানে এসো!’’

দূরের ছোট মেয়ে আইরিন দৌড়ে এল। সাদা পোশাকের পুরোহিত আইরিনকে নিয়ে পরশিউর সামনে এসে বলল, ‘‘আইরিন, তুমি তো স্কুলে বলো বন্ধুর অভাবে একা আর জাদু শেখার ইচ্ছেই হয় না, আজ তোমার জন্য একটা বন্ধু খুঁজে দিলাম। এই ছেলেটা অনেক জাদু জানে!’’ তারপর সে পরশিউর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘তোমার নাম কী?’’

‘‘পরশিউ ইয়েলিয়ান।’’ ছোটবেলা থেকেই পরশিউ সুবোধ, কে তার ভালো চায় বুঝতে পারে, তাই অপরিচিত হলেও সে অভদ্রতা করল না।

নাম শুনে ঝুফানোর মুখে মুহূর্তের জন্য একটা অস্বস্তি খেলে গেল, হাসিটাও থেমে গেল।

‘‘হ্যালো, পরশিউ, আমি আইরিন শেনো, ও হচ্ছে আমার গুরু ঝুফানো—চাঁদের পুরোহিত।’’

‘‘হ্যালো,’’ পরশিউ বলল। অলিভিয়েরা ছাড়া সে কারও সঙ্গে কথোপকথনে স্বচ্ছন্দ নয়।

আইরিন হাসিমুখে বলল, ‘‘আমার গুরু বলেছে তুমি অনেক জাদু জানো, এত ছোট বয়সে কী কী পারো?’’

পরশিউ আঙুল গুনে বলল, ‘‘আমি পারি... আলো-তলোয়ার, মায়ার ঢাল, বিচার...’’ তার গোনা শেষ হওয়ার আগেই আইরিন চেঁচিয়ে উঠল—

‘‘মিথ্যে বলছো! এত জাদু তুমি পারো?’’

‘‘অনেকটাই অচর্চিত, তবে সবাই করতে পারি,’’ পরশিউ বলল, ‘‘বিশ্বাস না হলে ওখানে গিয়ে দেখাতে পারি। এখানে জায়গা কম।’’

বলেই সে খোলা জায়গার দিকে এগিয়ে গেল, আইরিনও দৌড়ে গেল ওর পেছনে।

অলিভিয়েরা হেসে বলল, ‘‘ঝুফানো, তোমার চরিত্র যেমনই হোক, বাচ্চাদের প্রতি তুমি দয়ালু।’’

ঝুফানোও কটাক্ষ করল, ‘‘তুমিও কি কম! এমন একটা নাম দিয়ে ছেলেটার কি ভবিষ্যৎ ঠিক করেছো? তাকে পোপ বানাতে চাও?’’

অলিভিয়েরা হেসে উঠল, ‘‘পোপ তো ভালো লক্ষ্যই। তুমি-ই বা কম কিসে! নিজেই কি পোপের আসনে চোখ রাখোনি?’’

ঝুফানো গম্ভীর গলায় বলল, ‘‘অলিভিয়েরা, তুমি ভেবো না আমি বুঝি না তুমি আমাকে অপছন্দ করো। কিন্তু নিশ্চিন্তে থাকো, আমি স্কুলের পুরোহিত হিসেবে সব শিশুর প্রতি সমান, তাকে কোনোদিন অবহেলা করব না।’’

‘‘তাতে তোমার মন খারাপ হবে বোধহয়,’’ অলিভিয়েরা ধীরে বলল, ‘‘এই ছেলেটা আমি নিজে শিক্ষা দেব।’’

‘‘ওহ? অলসতার জন্য বিখ্যাত অলিভিয়েরা এবার শিষ্য গড়বে?’’ ঝুফানো অবাক হয়ে বলল।

অলিভিয়েরা হেসে চুপ থাকল।

ততক্ষণে চত্বরে, পরশিউর আঙুলে একের পর এক জাদু খেলে যাচ্ছে, আইরিন হাততালি দিয়ে মুগ্ধতার সঙ্গে দেখছে।

‘‘তুমি সত্যিই প্রতিভাবান! সেই আলো-তলোয়ারটা দেখাও তো!’’

পরশিউ আইরিনের কথামতো সামনে এক বিশাল জাদুচক্র আকাশে এঁকে, তার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে একটা তলোয়ার বের করল।

শুদ্ধ জাদু-নির্মিত তলোয়ার ঝকমক করছে সোনালী আভায়, তবে এই জাদু ব্যবহারকারীর উচ্চতা অনুযায়ী অস্ত্র গঠন করে, তাই পরশিউর হাতে সেটি ছোট তলোয়ারের মতো।

‘‘আমাকে একটু ধরতে দাও তো!’’ আইরিন ছুটে এসে তলোয়ারটি ছোঁয়ার আগে পরশিউ সেটি পেছনে লুকিয়ে ফেলল।

আইরিন ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘‘তুমি এত কৃপণ কেন!’’

পরশিউ মানুষের সঙ্গে কথা বলায় অস্বচ্ছন্দ, আইরিন রাগ করেছে দেখে সে ঘাবড়ে গেল, ‘‘আমি...এই তলোয়ার তোমাকে আঘাত করতে পারে...তুমি召কার নও, ছুঁলেই ক্ষতি হবে, জাদুশক্তি নষ্ট হবে...’’

কিন্তু আইরিন মুখ ফিরিয়ে রইল।

‘‘আইরিন...’’

আইরিন মুখ ঘুরিয়ে তাকাল না।

‘‘তোমাকে অন্য কিছু দেবো...’’ পরশিউ নিজের ব্যাগে খুঁজে একটা ছোট্ট ঘুঙুর বের করল, ‘‘নাও, এটা নাও...’’

আইরিন মুখ ঘুরিয়ে থাকলেও ফাঁকে ফাঁকে পরশিউর অস্বস্তি লক্ষ্য করছিল। শেষমেষ ঘুঙুরটা পেয়ে সে মুখ ভার করে সেটি নিল।

***

কয়েক মাস পর।

একদিন, পরশিউ আবার চুপিচুপি চৌকাঠের দ্বীপে জাদু অনুশীলনে গেল। অলিভিয়েরা বলেছিল ঘরে বসে জাদু চর্চা করতে, সাধারণত সে কথা শোনে, তবে আজ ব্যতিক্রম।

কারণ আজ আইরিনের ছুটি।

‘‘তুমি কথা রেখেছো, ভাবিনি!’’ আইরিন হাসল, সৈকতের দিকে তাকিয়ে থাকা পরশিউকে বলল। দ্বীপে পৌঁছেই সে দেখে পরশিউ আগে থেকেই অপেক্ষা করছে।

‘‘স্কুলে নতুন কিছু জাদু শিখেছো?’’ পরশিউ ঘুরে তাকাল না, সমুদ্রের দিকে চেয়ে থেকেই বলল।

‘‘না, এখনও তোমার শেখানো কয়েকটাই পারি, স্কুলে এখন কায়িক শিক্ষা হচ্ছে, আমি তলোয়ার শেখা শুরু করেছি!’’

‘‘অলিভিয়েরা কাকা বলেছে, আমায় তলোয়ার শিখতে হলে আরও সময় লাগবে। তাই তলোয়ার নিয়ে তোমাকে কিছু শেখাতে পারব না, পরে যদি কিছু বেশি কঠিন শিখি, তোমাকে শিখিয়ে দেব।’’

‘‘বাকিটা থাক, আগে আলো-তলোয়ার শেখাও! আমি ওটা দিয়ে তলোয়ার সাধনা করতে চাই!’’

‘‘ধরো তোমার চিহ্ন যদি রঙিন স্তরে পৌঁছে, তবে শেখাবো। সাধারণ চিহ্ন দিয়ে আলো-তলোয়ার অসম্ভব। তবে...আমি ভাবছি, অলিভিয়েরা কাকা আমাকে স্কুলে যেতে দেয় না কেন?’’

আইরিন হাসল, ‘‘বোধহয় তারা মনে করে তুমি অতীন্দ্রিয় প্রতিভাসম্পন্ন, সাধারণদের সঙ্গে পড়লে ওরা ঈর্ষা করবে, অযথা ঝগড়া হবে, তোমার সময় নষ্ট হবে।’’

‘‘হয়তো তাই...এই ক’দিন ও বাইরে থাকে, নাহলে রাতভর স্থান-শক্তি টাওয়ারে গিয়ে কথা বলে, আমার দিকে খেয়ালই নেই। আমি এমনিতেই কারও পছন্দের নই, বন্ধু হয় না, একা একা ভালো লাগে না।’’

স্থান-শক্তি টাওয়ার হচ্ছে কেন্দ্রীয় মহাদেশের আটটি টাওয়ারের একটি, প্রতিটা টাওয়ার এক একটি শক্তির প্রতীক—পৃথিবী, পানি, আগুন, বায়ু, আলো, অন্ধকার, সময়, স্থান।

‘‘আমি আছি, তাও কি যথেষ্ট নয়?’’ আইরিন মাথা কাত করে বলল।

পরশিউ মৃদু হাসল, ‘‘তুমি থাকলে, যথেষ্ট।’’

উত্তরে আইরিনের মুখে লাজুক হাসি ফুটলো, একটু লাল হল মুখ, প্রসঙ্গ পাল্টাল, ‘‘শোনো পরশিউ, তুমি বড় হয়ে কী হতে চাও?’’

পরশিউ সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘‘পোপ হতে চাই।’’

সে একবার মাত্র পোপকে দেখেছিল, এক পলকেই তার মহিমা ও ঔজ্জ্বল্যে সে অভিভূত হয়েছিল। সঙ্গে অলিভিয়েরার উপদেশ, তাই লক্ষ্য স্থির—পোপ।

‘‘তুমি?’’ পরশিউ পাল্টা জিজ্ঞেস করল।

আইরিন মাথা কাত করে বলল, ‘‘বলব না!’’

কয়েক মাস কেটে গেলেও পরশিউ তার স্বভাব বুঝে উঠতে পারল না।

তার বুদ্ধি প্রখর হলেও, ঈশ্বরী তার হৃদয়বৃত্তি রাখতে কার্পণ্য করেছেন, মেয়েদের মন বোঝার ক্ষমতা তার নেই।

যেমন এখন—

‘‘শোনো...পরশিউ, যদি...মানে যদি ভবিষ্যতে তুমি বিয়ে করো, আমায়...আমার মতো কাউকে বিয়ে করবে?’’ পরশিউর ‘‘তুমি ছাড়া আর কেউ দরকার নেই’’ কথায় সাহস পেয়ে লাল মুখে আইরিন জিজ্ঞাসা করল।

পরশিউ এবার আর সমুদ্রের দিকে তাকাল না, আইরিনের দিকে তাকিয়ে চেয়ে রইল। আইরিন লজ্জায় মুখ ফিরিয়ে নিল।

‘‘না, করব না। একদমই না।’’

‘‘কেন?’’ আইরিন অবিশ্বাস্য ভাবে বিস্মিত।

পরশিউ আবার সমুদ্রের দিকে ফিরে বলল, ‘‘তুমি আমার একমাত্র বন্ধু, সব কথা কেবল তোমাকেই বলি, তোমাকে বিয়ে করলে তো আর কোনো বন্ধু থাকবে না, একদম নিঃসঙ্গ হয়ে যাব...’’

আইরিন কপাল চেপে ধরল।

‘‘শোনো, পরশিউ...তুমি যদি রাজদণ্ড হও, আমাকে হতে দাও তোমার তরবারি...’’

‘‘কি?’’ পরশিউ অবাক।

‘‘শোনো নি? এক পুরোনো কাহিনি আছে...’’

‘‘আইরিন, ফিরে এসো!’’ ঝুফানোর কণ্ঠে ডাক এল, ‘‘তোমার অনুশীলন বাকি, সময় নষ্ট কোরো না!’’

‘‘পরশিউও তো এখানে!’’ আইরিন তাকে ঢাল করতে চাইল।

ঝুফানো ঠান্ডা গলায় বলল, ‘‘সে? সে তো প্রতিভাবান—পরীক্ষা ছাড়াই স্বর্ণখচিত চিহ্নের অধিকারী, তোমার মতো না, তুমি পরিশ্রম না করলে ওর সমান হবে কেমন করে?’’

বলতে বলতে ঝুফানো এসে আইরিনকে ধরে নিয়ে চলে গেল।

দূরে যেতে যেতে আইরিন হাত নাড়ল, ‘‘পরের বার কাহিনিটা শেষ করে দেব!’’

চৌকাঠের দ্বীপে তখন কেবল একজন—পরশিউ।

চতুর্দিকে সমুদ্রের ঢেউ উপকূলে আছড়ে পড়ছে।

শুধু পরশিউই সেই সুর শুনছে।

---------------------------

বড় পরিবর্তনের পর! প্রথম তিনটি অধ্যায় সংশোধনের পরে পড়ার আগ্রহ বেড়েছে তো? পাঠকদের অনুরোধ, দয়া করে收藏 করুন। ঝোলোইং শেষ পর্যায় পর্যন্ত লেখার প্রতিশ্রুতি দেয়, মানও অক্ষুণ্ণ রাখবে! ঝোলোইং নতুন লেখক হলেও নিজের শব্দচয়নে আত্মবিশ্বাসী!