আত্মহত্যার কঙ্কণ

আমি সত্যিই জাদুকরবিরুদ্ধ কোনো উদ্দেশ্য রাখিনি। দশ বছর, এক চাবিতে। 2806শব্দ 2026-03-20 06:41:19

……

দুর্দান্ত!

‘শত্রু মোকাবিলার পূর্বাভাস’ আর ‘দশ বছরের এক তরবারি’ একত্রে ব্যবহার করলে, তাহলে তো আমার প্রথম তিনটি আঘাত কার্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠবে!

রজার মনে আরও একটু নিরাপত্তার অনুভূতি পেল।

আগে যদিও ‘উনিশ চাঁদের আলো’ দিয়ে আঘাত নির্ভুল করা যেত, সেটা কেবল রক্তচাঁদ তরবারির জন্য সীমাবদ্ধ ছিল।

এখন সদ্য প্রাপ্ত এই দক্ষতাটি তাকে যে কোনো অস্ত্রে শত্রুর এড়ানোর ক্ষমতা নস্যাৎ করার নিশ্চয়তা দেয়!

শতভাগ নির্ভুল আঘাতের সঙ্গে শক্তি বৃদ্ধির সংযোগ।

এই চিন্তাটা ধরে সামনে এগোতে থাকলে, তাহলে কি কেবল প্রথম তিনটি আঘাতকে সর্বাধিক শক্তিশালী করলেই চলবে?

রজার একটু ভেবেচিন্তে নিল।

তবে খুব দ্রুতই সে এই চরম বিকাশের পথ বাতিল করে দিল।

প্রথম তিনটি আঘাতে শত্রু নিঃশেষ করা নিঃসন্দেহে এক ধরনের কৌশল, কিন্তু সব ডিম তো এক ঝুড়িতে রাখা যায় না।

এমনকি যদি শত্রু এড়াতে না-ও পারে, প্রতিরোধ তো করতেই পারে।

প্রতিরোধে ব্যর্থ হলেও, শত্রু যদি নিজের প্রতিরক্ষা আর প্রাণশক্তি বাড়ায়, তবুও সে টিকে থাকতে পারে।

ধরো যদি কোনো প্রবল প্রতিরক্ষা ও প্রাণশক্তিসম্পন্ন শত্রু আমার প্রথম তিন আঘাতও সহ্য করে ফেলে?

এ কথা ভাবতেই রজার মনে হলো, একটু আগের ‘আমি অজেয়’ ভাবনা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক।

‘অহংকারে ভাসা চলবে না।’

‘আমি কেবল একটু মাত্র শক্তিশালী হয়েছি।’

নিজেকে বারবার গভীর নিঃশ্বাস নিতে বলল সে, মাথা ঠান্ডা করে নিল।

‘শত্রু মোকাবিলার পূর্বাভাস’—এটি সাদা কাকের মুকুটের অন্তর্নিহিত দক্ষতা।

এবং এই আশ্চর্য বস্তুটির আরও কিছু বিশেষ গুণ আছে।

সাদা কাকের মুকুট (বিরল বস্তু)

দক্ষতা: শত্রু মোকাবিলার পূর্বাভাস

যোগ: অন্তর্দৃষ্টি +৬

বিশেষ প্রভাব: সাদা কাকের মুকুটের অধিপতি হিসেবে তুমি প্রবাহিত শক্তির অস্তিত্ব টের পাবে, যা শক্তি অনুধাবনে বিশেষ সহায়ক।

সাদা কাকের মুকুটের ‘অন্তর্দৃষ্টি +৬’ রজারকে দৈনন্দিন জীবন বা অভিযানের সময় গোপন বার্তা বুঝতে আরও দক্ষ করে তুলবে।

বিশেষ ক্ষমতা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত ক’দিনে রজার অস্পষ্টভাবে নিজের দেহে শক্তির প্রবাহ বুঝতে পারছে।

বিশ্বাস করে, খুব শীঘ্রই সে শক্তির ব্যবহার আয়ত্ত করবে।

শুধুমাত্র এই গুণেই সাদা কাকের মুকুটের আশ্চর্যত্ব প্রমাণিত।

আরও উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো—

এতসব গুণ রজার অর্জন করলেও, মুকুটটি সারাক্ষণ পরে থাকতে হয় না।

প্রতিদিন মাত্র দশ মিনিট ‘জীবনশক্তি সমন্বয়’ করলেই যথেষ্ট।

বাকি সময় ইচ্ছেমতো অন্য কোনো টুপি পরে ঘুরে বেড়ালেও কিছু যায় আসে না।

গুণাগুণে কোনো পরিবর্তন হয় না।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, সাদা কাকের মুকুট সত্যিই এক বিচিত্র ও অনন্য সরঞ্জাম।

সাদা কাকের মুকুটের কাজকর্ম শেষ করে—

রজার শেষবারের মতো প্রশিক্ষণ মাঠে পায়চারি করল, তারপর মালপত্র হাতে স্থানটি ছেড়ে গেল।

এই বিদায় হয়তো চিরতরের জন্য।

রজার মনোযোগ দিয়ে স্থানের অবস্থান মনে রাখল।

কখনো যদি যথেষ্ট কৃত্রিম প্রাণী তৈরির জ্ঞান ও উপকরণে দক্ষ হয়ে ওঠে, তাহলে ফিরে এসে আবার আঠারো নম্বর কৃত্রিম যোদ্ধাকে সক্রিয় করার চেষ্টা করবে।

শুদ্ধ জলধারার প্রশিক্ষণক্ষেত্র ছেড়ে, রজার সোজা গেল সাঞ্চির ছোট কুটিরের দিকে।

এতদিন ধরে মেয়েটিকে যেভাবে কষ্ট দিয়েছে, এবার তার পরিসমাপ্তি ঘটানো উচিত।

সাঞ্চির মাধ্যমে রজার শিকারি চিহ্নের বহুমুখী ব্যবহারিক সম্ভাবনা আবিষ্কার করেছে।

শিকারি চিহ্নের মাধ্যমে সে শুধু সাঞ্চির অবস্থান নয়, তার শরীর ও মনের অবস্থা দেখতে পারে!

তথ্য অনুযায়ী,

সাঞ্চির অবস্থা এখন তলানিতে।

এখনই তার দুঃখের অবসান ঘটানোর সময়।

প্রকৃতপক্ষে, যে পরিমাণ যন্ত্রণা সে পেয়েছে তার বড় অংশের কারণ এই শিকারি চিহ্ন।

রজারও নিজের কৌশলে কম অবদান রাখেনি।

পঞ্চম দিনে ইচ্ছাকৃতভাবে চিহ্ন মুছে দিয়ে সাঞ্চিকে বিভ্রান্ত করেছে।

সপ্তম রাত—

রজার এক ভূগর্ভস্থ বুনো শূকর ধরে এনে সাঞ্চির কুটিরে ছেড়ে দিয়েছিল।

ভালুক-হবিষ্যারা সতর্কতার অভাবে ঠেকাতে পারেনি।

বুনো শূকরটি একের পর এক যাদুময় ফাঁদে পা দিয়ে কুটিরের বেড়া ভেঙে ফেলে।

শিকারি চিহ্নের প্রতিক্রিয়া থেকে বোঝা যায়, শূকরটির এই উৎপাত সাঞ্চির আত্মা ওষ্ঠাগত করে তুলেছিল।

শূকরটি যখন দেয়ালে ধাক্কা দেয়, মেয়েটি হয়তো ভেবেছিল রজারই দরজায় এসে গেছে।

নবম দিনের সকালে—

রজার আবার একই কৌশল প্রয়োগ করল।

এবার সে একদল গণ্ডার-আকৃতির দানব পাঠাল সাঞ্চির জন্য।

ভালুক-হবিষ্যারা এইবার সতর্ক ছিল, আগে ভাগেই আতঙ্কিত গণ্ডার দানবদের আটকায়।

তবে অসহনীয় শব্দে সাঞ্চি এমনিতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

রজার জানে—

অজানা জিনিসই সবচেয়ে ভয়ংকর।

এগারো দিনের এই মানসিক নিপীড়নে, শুধু সাঞ্চি নয়, বাইরের ভালুক-হবিষ্যাদেরও চেহারা মলিন হয়ে গেছে।

কালো ছোট হ্রদের পাড় বেয়ে—

রজার ছায়ার চাদর গায়ে দিয়ে নিঃশব্দে প্রাচীরের বাইরে পৌঁছাল।

ভালুক-হবিষ্যারা কিছুই বুঝতে পারল না।

পূর্বের দুই দফা দানবের আক্রমণে রজার সাঞ্চির কুটির সংলগ্ন সব যাদুফাঁদের অবস্থান ভালো করে চিনে নিয়েছে।

সাঞ্চি এখনো এতটাই বিধ্বস্ত, নতুন করে ফাঁদ বসানোর শক্তি নেই।

এটাই রজারের সুযোগ।

সে চটপটে ভঙ্গিতে প্রাচীর ডিঙিয়ে ছাদে উঠে, তারপর চিমনির পথ ধরে সোজা রান্নাঘরে ঢুকে পড়ল।

কুটির একেবারে শান্ত।

চারদিকে ঝাঁকড়া গন্ধওয়ালা বোতল আর জার ছড়িয়ে ছিটিয়ে।

রজার তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বেশ কিছু স্পষ্ট ফাঁদ এড়িয়ে সাঞ্চির শয়নকক্ষের দরজায় পৌঁছাল।

এই সময় দরজা খোলা ছিল, ফাঁক দিয়ে দেখা গেল সাঞ্চি ঘুমোচ্ছে।

রজার কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল, কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ল না।

সে ধীরে ধীরে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।

হঠাৎ—

তীব্র যাদুর ঢেউ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল।

ঠাণ্ডা শীতল শক্তি রজারের পা থেকে পুরো শরীরে ছড়িয়ে গেল!

শয্যার ওপর—

রক্তাভ চোখে সাঞ্চি ঝাঁপিয়ে উঠে দাঁড়াল।

সে ‘বরফে বন্দি’ নামের এক卷 কাগজ ছুড়ে ফেলে, চাদরের নিচ থেকে ছোঁয়া লাঠি বের করে রজারের দিকে তাক করল।

কিন্তু ঠিক তখনই সে দেখল, তার সামনে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃশ্য—

ঘন বরফের শক্তি রজারের চামড়ার ওপর জমে হালকা সাদা কুয়াশা তৈরি করেছে।

রজারের গায়ে সামান্যও বরফের আস্তরণ জমেনি!

বরফে বন্দি মন্ত্র ব্যর্থ!

‘এ...এটা অসম্ভব...’

সাঞ্চি জড়ানো জিভে ছোঁয়া লাঠি ঘোরাতে ঘোরাতে বলল।

পরের মুহূর্তে, সবুজ পাখির তরবারি সহজেই তার হৃদয় বিদ্ধ করল।

তুমি সাঞ্চিকে হত্যা করেছ (ভূগর্ভবাসী জাদুকরী/প্রভাবশালী)।

তুমি ২৯ অভিজ্ঞতা পয়েন্ট লাভ করেছ।

তুমি ৪ ন্যায়পরায়ণতা পয়েন্ট পেয়েছ।

শাস্তি ঘোষণার পুরস্কার নির্ধারিত হচ্ছে...

তুমি সাঞ্চির বিশেষ দক্ষতা অর্জন করলে—ঔষধবিশারদ।

তরবারি টেনে বের করে রজার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

সাঞ্চির প্রতিক্রিয়া তার ধারণার বাইরে ছিল না।

খাঁচায় আটকে থাকা খরগোশও বিপদে কামড়াতে পারে, সেখানে একটি জাদুকর তো আরও ভয়ংকর।

শিকার কখনোই অবহেলা করার জিনিস নয়, যতক্ষণ না নিশ্চিত হওয়া যায় সে পুরোপুরি মৃত, ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই।

তথ্যপত্রে চোখ বুলিয়ে রজার দেখল, সাঞ্চির দেওয়া বিশেষ দক্ষতাটি বেশ উপকারী।

ঔষধবিশারদ (দ্বিতীয় স্তরের দক্ষতা): মৌলিক ঔষধ প্রস্তুতে তোমার ভুলের সম্ভাবনা প্রায় নেই; উচ্চস্তরের ঔষধ প্রস্তুতিতেও সফলতার হার অনেক বেড়ে যাবে।

যদিও লড়াইয়ের দক্ষতা নয়, রজারের ঔষধ প্রস্তুতকারকের পরিচয় অনুযায়ী, এটা যথেষ্ট কার্যকরী।

শয়নকক্ষে সংঘর্ষের শব্দ বাইরে থাকা ভালুক-হবিষ্যাদের নজরে পড়েনি।

রজার তখন সাঞ্চির দেহ ও শয়নকক্ষে পাওয়া জিনিসপত্র গুছিয়ে দেখল।

সেখান থেকে সে কয়েকটি জাদুমন্ত্রের কাগজ ও জাদুবস্তু পেল।

সবচেয়ে নজরকাড়া ছিল একটি নকশা করা রূপার ব্রেসলেট।

অন্তর্দৃষ্টি দেখাল—

এর নাম ‘আত্মঘাতী ব্রেসলেট’।