প্রথম থেকে পঞ্চম খণ্ডের সারাংশ এবং সাময়িক বিরতির আবেদন
খারাপ খবরটা আগে জানিয়ে রাখি:
আজ বিকেল ছয়টার পর্বটি থাকছে না।
ছুটির আবেদনের মূল কথা এটাই। এই ছুটির উদ্দেশ্য হলো লেখার মান উন্নত করা। আমার প্রতি পাঁচ ঘণ্টায় এক অধ্যায় লেখার গতিতে কোনো জমানো পাণ্ডুলিপি তৈরি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা যারা নিয়মিত পাঠক, তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে সকাল ১০টার পর্বটি মোটামুটি সময়মতো এলেও সন্ধ্যা ৬টার পর্বটি অনিয়মিত হয়ে পড়ছে। এর কারণ হলো আমার হাতে কোনো জমানো লেখা নেই, আর গত কয়েকদিন ধরে রাত জেগে লিখেছি বলে শরীর আর কুলাচ্ছে না।
এভাবে তড়িঘড়ি করে লিখে সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশ করার বিষয়টি বেশ গুরুতর। আমার মনে হয়, এতে লেখার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও জানি, এই সময়ে ছুটি নিলে তা বইয়ের র্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলবে, তবুও আমার কাছে লেখার মানই সবার আগে। আমার আর কোনো উপায় নেই। আশা করি আপনারা বিষয়টি সহমর্মিতার সাথে দেখবেন। তাছাড়া, একটু আগের অধ্যায়টি তো বেশ বড় (৪ হাজার শব্দ) ছিলই।
এবার ১ থেকে ৫ খণ্ড পর্যন্ত একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া যাক। আমি খুঁতখুঁতে স্বভাবের মানুষ। পুরো বইটিকে আমি তিনটি ভাগে ভাগ করেছি, যার প্রথম ভাগ হলো ‘মিসত্রার শ্যালোইন’। এই অংশটি আমি প্রায় ২০টি খণ্ডে ভাগ করেছি। বর্তমানে ৫টি খণ্ড শেষ হয়েছে, যার মোট শব্দসংখ্যা দুই লক্ষ ঊনআশি হাজার।
এর তালিকা হলো:
প্রথম খণ্ড: ‘উনতাই পাহাড়ের ব্যাঙ শিকারি’। (অধ্যায় ০১ থেকে ২০, মোট ৪৭ হাজার শব্দ)
দ্বিতীয় খণ্ড: ‘দক্ষিণের পথে’। (অধ্যায় ২১ থেকে ৫২, মোট ৬৭ হাজার শব্দ)
তৃতীয় খণ্ড: ‘জমিদারির শীতকাল’। (অধ্যায় ৫৩ থেকে ৮২, মোট ৭৫ হাজার শব্দ)
চতুর্থ খণ্ড: ‘বন ও গুপ্তধন’। (অধ্যায় ৮৩ থেকে ৯৫, মোট ৪০ হাজার শব্দ)
পঞ্চম খণ্ড: ‘হাড়ের কর’। (অধ্যায় ৯৬ থেকে ১১১, মোট ৫০ হাজার শব্দ)
কেন এই সময়ে সারসংক্ষেপ করছি? কারণ মূল কাহিনির নকশা অনুযায়ী ১ থেকে ৫ খণ্ড পর্যন্ত একটি ঘটনার সমাপ্তি টানা হয়েছে। এই শুনে অনেকে অবাক হতে পারেন যে, “আরে, এই বইয়েও কি কোনো কাহিনি আছে?” আমি কিছুটা লজ্জিত হয়েই মাথা নাড়ছি: “যদিও খুব একটা ভালো নয়, তবে কাহিনি কিন্তু আছে।” হ্যাঁ, এটি মূলত একটি দ্রুতগতির বিনোদনমূলক গল্প, তবে এর একটি মূল ধারাও রয়েছে। হয়তো আমার লেখনী খুব একটা শক্তিশালী নয় বলেই আপনারা তা এড়িয়ে গেছেন।
পঞ্চম খণ্ডে যখন আমি আগের অনেকগুলো সূত্র এক করার চেষ্টা করছিলাম, তখন অনেকের কাছে বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। এটার জন্য আমি দুঃখিত, আমার দক্ষতার অভাব রয়েছে। আমাকে আরেকটু সময় দিন, পরের ৫ খণ্ড নিশ্চিতভাবেই আরও ভালো হবে। আমার লেখনী যেমনই হোক, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধাঁধাটি কিন্তু সাজানো শুরু হয়েছে। পরবর্তী ঘটনাগুলো আগের চার খণ্ডের মতোই হবে, তবে পঞ্চম খণ্ডের মতো আমি নির্দিষ্ট সময়ে কাহিনির মোড়গুলো গুছিয়ে নেব, যাতে কোনো অসম্পূর্ণতা না থাকে। প্রতিটি ছোট ধাঁধা সমাধান শেষে একটি বড় রূপ নেবে, যা প্রায় ৮ থেকে ১০ লক্ষ শব্দের কাছাকাছি গিয়ে দাঁড়াবে। প্রথম ভাগের বিশটি খণ্ড শেষ হলে আপনারা নিশ্চিতভাবেই একটি চমৎকার এবং অভাবনীয় চমক পাবেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, কাহিনি বিন্যাস ও কাঠামোর দিক থেকে আমার পরিকল্পনা অত্যন্ত শক্তিশালী। আমার দুর্বলতা শুধু প্রকাশভঙ্গি এবং লেখায়। অনেক চমৎকার দৃশ্যই হয়তো আমি ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারিনি, আশা করি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে। শুরুর তুলনায় এখন আমার লেখার ধরন অনেক সাবলীল হয়েছে, যা আপনারা নিশ্চয়ই অনুভব করছেন।
আমি কেন এত ধীরে লিখি?
খসড়া, উপখণ্ড, বিস্তারিত রূপরেখা এবং প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনায় আমার প্রতিদিন দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। তথ্য, নিয়ম, চরিত্র পরিচিতি, দানব নকশা এবং অন্যান্য সেটিং তৈরিতে যায় চার ঘণ্টা। এরপর লেখার পালা (রূপরেখা ঠিক থাকলে এক অধ্যায় লিখতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগে)। প্রথম দুটি কাজ এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই, করলে পুরো বইয়ের কাঠামো ভেঙে পড়বে। গেম-ভিত্তিক ফ্যান্টাসি লেখার সবচেয়ে কঠিন দিক এটিই। তবে লেখার গতি বাড়ানো সম্ভব। আমার শব্দভাণ্ডার সীমিত, তাই বারবার একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করি। এই জায়গাটিতে আমার উন্নতির অনেক সুযোগ আছে। হয়তো ভবিষ্যতে আমিও দ্রুত লেখার জাদুকর হয়ে উঠব! (স্বপ্ন দেখা দোষের কিছু নয়!)
শেষে কিছু খুঁটিনাটি বিষয়, যা হয়তো আপনাদের চোখ এড়িয়ে গেছে:
১. রজার যখন ‘শি লু ইয়াও’-এর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, তখন সব তথ্যই ছিল লোকমুখে শোনা। সবাই বলেছিল সে ‘জেম সিটি’ থেকে আসা জাদুকর, কিন্তু ‘সাইলা নদী’ বহুদিন ধরে বন্ধ। তাহলে সে আসবে কীভাবে? পঞ্চম খণ্ডের তথ্যগুলো মেলালে বোঝা যায়, সে আসলে ‘বেরিয়েল গ্রাউন্ড’-এর এক সাধারণ জাদুকর ছিল। ‘হাড়ের কর’ চালু হওয়ার পর সে দক্ষিণে আসে এবং灰岩城 (গ্রে রক সিটি)-এর সাথে যোগাযোগ রেখে গ্রাম লুট করত। রজার তাকে ধরল ঠিকই, কিন্তু সে আসলে ‘মেইনজিং ক্লাউড’ দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যাচ্ছিল।
২. রজার যখন ‘মেইনজিং ক্লাউড’ দেখেছিল, তখন অশুভ সংকেতের কথা বলা হয়েছিল। পরে কিন্তু কিছুই ঘটেনি। তবে এর পরের সংকেতগুলো সত্যি হয়েছিল। এর মানে হলো রজার যখন এলাকা ছেড়েছিল, তখন অশুভ ঘটনাটি ঘটেনি। এখানেই সেই সূত্রটি লুকিয়ে ছিল।
৩. রজার যখন আন্ডারগ্রাউন্ড সিটিতে ‘কোই’ নামের ডার্ক এলফের সাথে কথা বলছিল, সে ‘ব্যান্ড সিটি’র কথা বলেছিল। তার মতে, সেখানকার বামনরা খুব খারাপ। কিন্তু ‘ইকাদোরে’র বিশ্বাস এবং হোয়াইট মুন সিটির বামনদের দানবে পরিণত হওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায়, ব্যান্ড সিটির বামনরাই আসলে আসল বামন। তাদের সাথে জোট গড়ার পথটি আগে থেকেই তৈরি ছিল।
এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর উদ্দেশ্য হলো, যারা দ্রুত গল্প পড়তে পছন্দ করেন, তাদের কোনো সমস্যা হবে না। আর যারা রহস্য পছন্দ করেন, তারা গোয়েন্দা গল্পের মতো আনন্দ পাবেন। আমার লক্ষ্য হলো, প্রথমত পাঠকদের বিনোদন নিশ্চিত করা। মাঝে মাঝে রহস্যপ্রেমীদের জন্য ছোট ছোট চমক রাখা। (সত্যি বলতে, এগুলো লেখা বেশ পরিশ্রমের কাজ, তাই খুব বেশি করার সাহস পাই না।)
আজ এই পর্যন্তই।
মাথা নত করে ক্ষমা চাইছি!
গালি দেবেন না দয়া করে।
সাবস্ক্রিপশন চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ রইল।